মনসুর আজিজ
কবি
বর্তমান সময়ে মনসুর আজিজ বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। শুধু কবিতায় নয়; সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় রয়েছে তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ছড়া, গান, অনুবাদ—সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখেছেন এক উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তিনি বহুলপঠিত ভিন্নধারার লিটলম্যাগ ‘আড্ডাপত্র’-এর সম্পাদক এবং সাহিত্য সংগঠন রাইটার্স অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
১৯৭৪ সালের ১৫ আগস্ট চাঁদপুর জেলার হাইমচরে জন্ম নেওয়া এই কবির বাবা মোহাম্মদ আজিজুল হক ও মা আনোয়ারা বেগম। বর্তমানে তিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করছেন। শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
নব্বই দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মনসুর আজিজের লেখনী তিন দশক ধরে দেশের প্রথম সারির দৈনিক, মাসিক, সাহিত্যপত্রিকা ও লিটলম্যাগে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশের নানা দেশে তাঁর কবিতা ও লেখালেখি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেম, প্রকৃতি, দ্রোহ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানবিক বোধ ও আন্তর্জাতিকতা তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়। ছন্দ ও উপমার নতুনত্ব, লোকজ উপাদান, ইতিহাস ও মিথের অনন্য উপস্থাপনা তাঁকে সমসাময়িক কবিদের ভিড়ে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে। শিশুতোষ ছড়া-কবিতায় তিনি গ্রামবাংলার রূপবৈচিত্র্য ও চিরায়ত প্রকৃতিকে এমনভাবে মিশিয়েছেন, যা শিশুমনে দেশপ্রেমের দীপ্তি জাগায়।
এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঁচিশ। এর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, ছড়া-কিশোরকবিতা, উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, গবেষণা, অনুবাদ ও কিশোর সাহিত্য। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো—
অতলান্ত নীলচোখ (২০০২), অনন্ত আকাশের জ্যোতির্ময় নক্ষত্র (২০০৭), মনুষ্যত্বের ল্যাম্পপোস্ট (২০০৯), শব্দের বেনারসি (২০১১), জোড়াপাখি ফুলের রুমাল (২০১২), জল ও জোয়ারের কাব্য (২০১৪), আঁধারের নাকফুল (২০১৬), সুনির্বাচিত কবিতা (২০১৭), আত্মধ্যানের আসন (২০২০), নিমগ্ন সন্ধ্যার আলো (২০২৩) এবং করতলে বৃক্ষের দাগ (২০২৫)।
শিশুতোষ সাহিত্যেও তিনি রেখে গেছেন সমান স্বাক্ষর। নীল গালিচার স্বপ্ন (২০০৭), হৃদয়পুরের রাজা (২০০৮), মেঘের খোপায় পালক ভরে (২০০৯), নতুন ভোরে হীরের কুচি (২০১১), সবুজ পাতা আঁকতে জানি (২০১৪), দুর্দিনের ছড়া (২০০৯)—সবগুলোই পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোর উপন্যাস ভেলায় চড়ে সারাবেলা (২০০৮), গল্পগ্রন্থ রাজকুমারী (২০১৪) ও নির্বাচিত কিশোর গল্প (২০১৮), উপন্যাস জীবনবেলার বিকিকিনি (২০১৩) এবং গবেষণা শিশুর আচরণ শিশুর সাথে আচরণ (২০১৫, ২০২৩ দ্বিতীয় সংস্করণ)—তাঁর সাহিত্যকীর্তিকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। অনুবাদ গ্রন্থ লৌহদাবন (মূল: টেড হিউজ, ২০২৫) ইতোমধ্যে পাঠকমহলে আলোড়ন তুলেছে।
সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন বহু সম্মাননা ও পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্র লেখক সম্মাননা (২০০৮), এখন প্রতিচ্ছবি পুরস্কার (ভারত, ২০১৪), পদ্মরাগ সাহিত্য পুরস্কার (২০১৫), অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার (১৪২১), পলাশী সম্মাননা (ভারত, ২০১৯), দেশজ পুরস্কার (২০১৯), সৈয়দ আলী আহসান পদক (২০২০) এবং মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পুরস্কার (২০২০)।
ভ্রমণ করেছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা।
তাঁর কবিতা ও অন্যান্য লেখালেখি নিয়ে দেশ-বিদেশের স্বনামখ্যাত প্রায় অর্ধশত কবি-লেখক প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- কবি আল মাহমুদ, কথাশিল্পী জুবাইদা গুলশান আরা, শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম,কবি মতিন বৈরাগী, কবি জাফরুল আহসান, কবি মাহমুদ কামাল, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি হাসান আলীম, গবেষক ড. মাহফুজ পারভেজ, গবেষক প্রবীর বিকাশ সরকার, স.ম. শামসুল আলম, কবি জহিরুল ইসলাম, কবি আমিনুল ইসলাম, ছড়াকার জগলুল হায়দার,ড.শাহনাজ পারভীন, কবি নাসের হোসেন, শিশুসাহিত্যিক দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য, কবি ও গবেষক পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কবি বিশ্বজিৎ মন্ডল, কবি কবিরুল ইসলাম কঙ্ক,কথাসাহিত্যিক সৌরভ হোসেন; কবি মনিরুজ্জামান পলাশ, কবি সব্যসাচী সেন গুপ্ত, কবি অব্যয় অনিন্দ্য, কবি আফসার নিজাম, কবি তাজ ইসলাম, কবি নাসিমা হক মুক্তা,ছড়াকার সেলিম এমরাজ,কবি রায়ান নূর,কথাশিল্পী সালেহ বায়েজীদ, কবি প্রদীপ ব্যানার্জী, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ, কবি জব্বার আল নাঈম, কবি আশিক বিন রহিম,কথাসাহিত্যিক সোয়েব সাইফী; কবি ইমরান মাহফুজ, কবি শিমুল জাবালী, শিশুসাহিত্যিক বোরহান মাসুদ উল্লেখযোগ্য।
জন্মস্থান
হাইমচর, চাঁদপুর
১৯৭৪ সালের ১৫ আগস্ট
শিক্ষা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং পরবর্তীতে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন
প্রথম বই
অতলান্ত নীলচোখ (২০০২)